আইএস নেতা হত্যা করে কোন নাটক ধামাচাপা দিচ্ছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

লেখকঃ সারোয়ার আলম 
(আনাদলু এজেন্সির দক্ষিণ এশিয়া বিষায়ক গবেষক)

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
জো বাইডেন
আমেরিকা যখনই কোন সমস্যায় পরে। আন্তর্জাতিক ভাবে তার ইমেজে সংকট সৃষ্টি হয় তখই আইএসআইএস নামের তথাকথিত ইসলামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার একশন শুরু হয়ে যায়।
আইএসআইএস যে মার্কিন প্রশাসনের তৈরি সেটা তো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন! সিরিয়া আব ইরাক থেকে নাকি আইএসএইএসকে নির্মূল করা হয়েছে! তাদেরকে মার্কিন মদদপুষ্ট SDF সন্ত্রাসীদের জেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন আগে থেকে আস্তে আস্তে ছেড়ে দেয়া হয় এই আইএসএইএসকে কয়েদিদের। 

কিভাবে ছেড়ে দেয়া হয়? জেলের নিরাপত্তায় থাকা মার্কিন মদদপুষ্ট SDF সদস্যরা এলাকা ছেড়ে যায় আইএসএইএস সদস্যরা এসে জেলের তালা ভেঙ্গে তাদের নিয়ে যায়। খবর হয় যে আইএসএইএস SDF এর উপর হামলা করে কয়েদিদের ছিনিয়ে নিয়েছে। এরপর (ছেড়ে দেয়া) এই আইএসআইএস ছোট খাট হামলা চালিয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয়।

পশ্চিমা গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করে সে হামলার খবর। সেখানে বলা হয় এই এসআইএস সারা বিশ্বের জন্য হুমকি সরূপ। 

মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে হুমকি ধামকি দিয়ে কিছু করতে না পারলে দেশের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ইমেজ সংকটে পরে। সেই ইমেজ পুনরুদ্ধারে ব্যবহার করা হয় এসআইএসকে। সিরিয়ায় এসআইএস-এর তথাকথিত লিডারকে "বীরোচিতভাবে" হত্যা করে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার গুরু দায়িত্ব সফল ভাবে শেষ করে হিরো হয়ে জান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আবার হয়তো কিছুদিন চুপ থাকবে। 

আবার যখন দরকার হবে তখন গর্ত থেকে বেড় করে আনা হবে তাদের এই হাতে গড়া আজ্ঞাবহ আইএসআইএস নামক তথাকথিত "মুসলিম সন্ত্রাসীদের"। 


আমেরিকাকে কল্পনা করে এই গল্পটা পড়ুন...
চোর আর চেয়ারম্যানের গল্পঃ

এক এলাকায় একটা চোর ছিল। ঐ এলাকার চেয়ারম্যানও জানতো যে ও চোর। এমনকি চেয়ারম্যান ঐ চোরকে শেল্টার দিত। তবে একটা শর্ত ছিল ঐ চোর চেয়ারম্যানের ইউনিয়নে চুরি করতে পারবে না। আশেপাশের এলাকায় চুরি করলে কোন সমস্যা নেই। একবার চেয়ারম্যান এলাকায় ফষ্টিনষ্টি করতে গিয়ে ধরা খায়। এলাকার মানুষ তার বিচার চায়। চেয়ারম্যান তাড়াতাড়ি করে রাতেই চোর ধরার ব্যবস্থা করলো পাশের কয়েক এলাকার চেয়ায়রম্যানদেরকেও ডাকলো চোরের বিচার করার জন্য। 

কারণ এই চোর আশেপাশের এলাকায়ও চুরি করেছে। কয়েকদিন ধরে চলল এই বিচার। চোরের শাস্তি হলো তাকে এলাকা ছাড়া করতে হবে। চোর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে চেয়ারম্যান লোক পাঠিয়ে থাকে ভালো পরিমাণে একটা টাকা দিলো বেচারা গরিব লোকটার পথ খরচ বাবদ। আর জানালো যে চেয়ারম্যান আসলে চায়নি যে সে ধরা পরুক। এভাবে চেয়ারম্যান চোরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলল। চেয়ারম্যান যখনই বেকায়দায় পরে তখনই চোর ধরা পরে আর চোরকে ধোলাই দেয়। এজন্যে পরে অবশ্য চোরকে টাকা দেয় চেয়ারম্যান। এভাবে চেয়ারম্যান আর চোরের সম্পর্ক চলতে থাকে। 

Previous Post Next Post