কর্নাটকের ঘটনায় একাবিংশ শতাব্দীতে এসে অন্ধকারের জগতে প্রবেশ করছে ভারত

লেখকঃ আবিদ হাসান
BBC Bangla থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্নাটক রাজ্যে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে প্রতিবাদ
কর্নাটকে হিজাবের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করায়
আন্দোলনরত মুসলিম শিক্ষার্থীরা
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্নাটক রাজ্যে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে প্রতিবাদ বৃদ্ধির মুখে রাজ্যের কর্তৃপক্ষ তিন দিনের জন্য সব হাইস্কুল এবং কলেজ বন্ধ করে দিয়েছে।

 কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্যের কয়েকটি কলেজ কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়ায়স হিজাব পরা তাদের ইউনিফর্ম নীতিবিরুদ্ধ বলে ক্লাসের ভেতর হিজাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে সেই ছাত্রীদের আবার ক্যাম্পসে ঢুকতে দেয়া হলেও তাদেরকে কোন ক্লাসে অংশ না নিয়ে আলাদা একটি কক্ষে বসে থাকতে বলা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই ঘৃণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মুসলিম ছাত্রীরা বলছেন, তারা বহু বছর ধরে হিজাব পরেই ক্লাস করছেন, এটি তাদের ধর্মীয় বিধানের অঙ্গ।

তবে হিজাব পরার পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ অনেক জায়গাতেই সহিংস রূপ নেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি কলেজের ক্যাম্পাসে একদল ছাত্র ভারতের জাতীয় পতাকা নামিয়ে সেখানে হিন্দু ধর্মীয় পতাকা তুলছে। হিসাব করলে বুঝায় যায় যে বর্তমান ভারতীয় সরকারের অধীনস্ত মুখ্যমন্ত্রীরা ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঠিক এই একই কারণে ৪৭শে ভারত বিভক্ত হয়। 

সরকার যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়নি, সেজন্যে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা করছেন।

কর্ণাটক রাজ্যে এখন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতাসীন। দলটির সমালোচক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, হিজাবের বিরুদ্ধে যে প্রচারণা এখন চলছে, তা ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের হয়রানির জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের প্রচেষ্টার অংশ।

কর্নাটকের কয়েকটি কলেজ তাদের ক্লাসরুমে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার পর থেকে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা বাড়ছিল। গত বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও বের হয় যাতে দেখা যায়, কর্ণাটকের উদুপি জেলার কুন্ডাপুরে একদল হিজাব-পরা ছাত্রীর মুখের ওপর একটি কলেজের দরজা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এর একদিন আগে ওই কলেজের ছাত্রদের হিন্দুত্ববাদীদের প্রতীক গেরুয়া রঙের শাল পরে হিজাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

৪৭-শে দেশ ভাগের প্রথম ও প্রধান কারণ ছিল ধর্ম বা দ্বিজাতি তত্ত্ব। এখন এসে সবারই ভাবা উচিত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আসলে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করে যতই নিন্দিত হোক না কেনো তিনি আসলে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

প্রশ্ন তো থেকেই যাই....
তাহলে ৪৭-এর পথে কি ভারত কি আবার আগাচ্ছে?
ভারতের শাসকরা ধর্মকে কেনো হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে? 
যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশ পরিচলনা করে তাহলে ভারতীয় সংবিধানের মূল্য কি?
বারবার কেনো মুসলিমদের উপর দাঙ্গা চাপিয়ে দেওয়া হয়।
তাহলে কি ভারতের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ উঠে যেতে চলেছে? 

বার্তমান ভারতের হিন্দু উগ্রতাবাদ দেখে মনে হচ্ছে যে, ভারতের জনগণ খুব শিঘ্রই একাবিংশ শতাব্দীর জ্ঞান-বিজ্ঞান সময়ে এসে আলোর পথ ছেড়ে অন্ধকার জগৎতে প্রবেশ করেছে।
Previous Post Next Post