এরদোগানের আমিরাত সফর ও ইরানী গণমাধ্যমের চিন্তাধারা

লেখকঃ সারোয়ার আলম
(আনাদোলু এজেন্সির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক)

রিসেপ তাইপ এরদোগান ও মোহাম্মাদ বিন যায়িদ
রিসেপ তাইপ এরদোগান ও মোহাম্মাদ বিন যায়িদ
তুরস্কের সাথে আরব আমিরাতের নতুন আরও ১২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ১৪ও ১৫ই ফেব্রুয়ারি দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আরব আমিরাতে আছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোয়ান। সেখানে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন যায়িদের সাথে বৈঠক হবে। দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। আঞ্চলিক বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন তারা। এরদোয়ানের এই সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কমপক্ষে ১২ টি চুক্তি হওয়ার সম্ভবনা আছে। এরদোয়ানকে স্বাগত জানাতে আরব আমিরাতের রাজধানীর প্রধান রাস্তাগুলো স্বাগত ব্যানার আর দু দেশের পতাকায় সাজানো হয়েছে। এছাড়াও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেছে দেশটির সরকার।
তবে এই সফর নিয়ে ইরানী গণমাধ্যম এরদোয়ানের সমালোচনা করেছে। তারা বলছে,
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন সেটা এরদোয়ানের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলে ধারণা করছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে। সেখানে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সাথে তুরস্কের সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়।
তেহরান টাইমসের এক আর্টিকেলে দাবি করা হয় যে,
আঞ্চলিক এই সব দেশের সাথে তুরস্ক সম্পর্ক উন্নয়ন করলেও ইরানের সাথে সমান তালে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাইছে না। ইরানী গোয়েন্দাদের গ্রেফতারের খবর দু'দেশের খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ছাড়াও তুরস্কের সাথে অঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইরানের আহলুল বাইত সংবাদ সংস্থা তুরস্ক-ইসরাইলের সম্পর্কেরও ব্যাপক সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে এরদোয়ানের। তার বিগত দিনের ইসরাইল বিরোধী বক্তব্য বিবৃতির সাথে বর্তমানে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা পোষণ পরস্পর বিরোধী আচরণ বলেও দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয় এরদোয়ানের এই সম্পর্ক গড়ার পিছনে মূল কারণ অর্থনীতিকে বাঁচানো এবং আগামী নির্বাচনে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা। কিন্তু দুইটার কোনটাতেই সফল হবে না বলে ধারণা করে ইরানের গণমাধ্যম। অন্যদিকে ইসরাইলের সাথে সুসম্পর্ক গড়লে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে এতদিন যা বলে আছেন তা শুধু ফাঁকা বুলি বলেই মনে করা হবে বলে জানাই এই অনলাইন মাধ্যমটি।
উল্লেখ্য, ইরানের গণমাধ্যমে এরদোয়ান বিরোধী বড় বড় শিরনাম প্রায়ই দেখা যায়।
Previous Post Next Post